পেরুর অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি, হোসে জেরী, চীনা ব্যবসায়ীদের সাথে গোপন বৈঠকের জেরে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হচ্ছেন, যার কারণে বিরোধী আইনপ্রণেতারা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার কথা ভাবছেন। ৩৯ বছর বয়সী জেরী, লিমায় বুধবার কংগ্রেসের একটি তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সামনে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানান যে তিনি সরকারি অফিসের সময়ের বাইরে চীনা ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সাথে দুটি গোপন বৈঠক করেছিলেন।
জেরী কোনো প্রকার ভুল কাজ করার কথা অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে আসন্ন এপ্রিলের নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তাকে কালিমালিপ্ত করার একটি চক্রান্ত করা হচ্ছে। কমিটিকে তিনি বলেন, "এটাকে একটি ফাঁদ হিসেবেও বোঝা যেতে পারে," এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তিনি দেশের কাছে মিথ্যা বলেননি।
তবে বিরোধী আইনপ্রণেতারা এখনও সন্দিহান। তাদের অভিযোগ, জেরী বৈঠকের কথা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন এবং এটি অভিশংসনের যোগ্য। বৈঠকগুলোর সুনির্দিষ্ট বিবরণ এবং আলোচনার বিষয়বস্তু এখনও অস্পষ্ট, যা জল্পনা এবং আরও বেশি স্বচ্ছতার দাবিকে উস্কে দিচ্ছে।
জেরী তার পূর্বসূরি দিনা বোলোয়ার্তের অপসারণের পর অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার প্রশাসনের উপর স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আসন্ন নির্বাচন তদারকি করার দায়িত্ব রয়েছে। বর্তমান কেলেঙ্কারি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে।
কংগ্রেসের তত্ত্বাবধায়ক কমিটি বিষয়টি নিয়ে তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। জেরীর সম্পৃক্ততার সম্পূর্ণ মাত্রা এবং চীনা ব্যবসায়ীদের সাথে তার আলোচনার প্রকৃতি নির্ধারণের জন্য কমিটি সম্ভবত অতিরিক্ত সাক্ষীদের তলব করবে এবং প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনা করবে। তদন্তের ফলাফল জেরীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং পেরুর সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment