কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে দেওয়া এক ভাষণে বলেন যে বিশ্বের নিয়ম-ভিত্তিক শৃঙ্খলা ভেঙে গেছে। কার্নির এই মন্তব্য, যদিও সরাসরি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করেনি, ব্যাপকভাবে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং প্রধান বিশ্ব শক্তিগুলোর শক্তি ব্যবহারের সমালোচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই মূল্যায়ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অর্থনীতিবিদদের মধ্যে যথেষ্ট বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রাক্তন সম্পাদক লিওনেল বার্বার কার্নির বিবৃতির তাৎপর্য উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এর দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি হতে পারে। বার্বার বলেন, "কার্নির মন্তব্য বিশ্ব শাসনের প্রতিষ্ঠিত নিয়মগুলো দুর্বল হয়ে যাওয়ার ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে।"
ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বেসমা মোমানি একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বিদ্যমান ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করে একতরফা পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞার উদাহরণ উল্লেখ করেন। মোমানি বলেন, "এই ব্যবস্থা নিখুঁত নয়, এবং এটি সর্বদা ক্ষমতার গতিশীলতার অধীন ছিল, তবে বহুপাক্ষিকতার প্রতি অঙ্গীকারের ক্ষয় একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা।"
ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটির রাজনীতির অধ্যাপক ডোনাচা ও বিচেইন যোগ করেন যে বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদ এবং সংরক্ষণবাদের উত্থান আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করতে অবদান রেখেছে। ও বিচেইন ব্যাখ্যা করেন, "আমরা একটি জিরো-সাম চিন্তাভাবনার পুনরুত্থান দেখছি, যেখানে সহযোগিতাকে পারস্পরিক সুবিধার উৎস হিসেবে না দেখে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়।"
"নিয়ম-ভিত্তিক শৃঙ্খলা" ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত আইন, চুক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি ব্যবস্থাকে বোঝায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে মূলত গঠিত এই শৃঙ্খলা, সহযোগিতা এবং সম্মত নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি উন্নীত করার লক্ষ্য রাখে। সমালোচকদের যুক্তি হলো এই ব্যবস্থাটি কিছু দেশকে disproportionately ভাবে উপকৃত করেছে এবং বৈষম্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলো মোকাবেলায় পর্যাপ্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সমর্থকরা মনে করেন যে এটি বড় আকারের সংঘাত প্রতিরোধ করেছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সহজতর করেছে।
একটি ভেঙে যাওয়া নিয়ম-ভিত্তিক শৃঙ্খলার প্রভাব সুদূরপ্রসারী, যা বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং পরিবেশ চুক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, চলমান আলোচনা নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং ক্ষমতার পরিবর্তনশীল গতিশীলতাকে সামঞ্জস্য করার জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থাকে কীভাবে অভিযোজিত করা যায় তার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর উপর আরও আলোচনার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment