ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে যে, X (পূর্বে টুইটার) তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল গ্রোক ব্যবহার করে তৈরি করা ডিপফেক্সের বিস্তার রোধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকারের এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এআই-ভিত্তিক কন্টেন্টের সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং জনমত প্রকাশের উপর এর প্রভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
এআই মডেল এবং বাস্তবসম্মত কিন্তু জাল ভিডিও ও অডিও তৈরি করার ক্ষমতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মধ্যে X এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ডিপফেক্স, যা অত্যাধুনিক মেশিন লার্নিং কৌশল ব্যবহার করে, ভুল তথ্য ছড়াতে, জনমতকে প্রভাবিত করতে এবং খ্যাতি নষ্ট করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। X-এর এআই মডেল গ্রোক একটি বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম), যা অন্যান্য এআই সরঞ্জামগুলির মতো টেক্সট তৈরি, ভাষা অনুবাদ এবং বিভিন্ন ধরণের সৃজনশীল কন্টেন্ট তৈরি করতে সক্ষম। তবে, এর সহজলভ্যতা ডিপফেক্স তৈরিতে এর অপব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, "এআই-ভিত্তিক ভুল তথ্য সম্পর্কিত ঝুঁকি কমাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো যে কোনও পদক্ষেপ নেয়, আমরা তাকে স্বাগত জানাই।" "এটা জরুরি যে এই প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের সাইটে হোস্ট করা কন্টেন্টের দায়ভার নেয় এবং ক্ষতিকর ডিপফেক্সের বিস্তার রোধে ব্যবস্থা নেয়।"
X কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা এখনও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি, তবে শিল্প বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এর মধ্যে উন্নত কন্টেন্ট নিরীক্ষণ নীতি, উন্নত ডিটেকশন অ্যালগরিদম এবং এআই-ভিত্তিক কন্টেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর ব্যবহারকারী নির্দেশিকা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ডিটেকশন অ্যালগরিদমগুলি প্রায়শই ডিপফেক্সের সূক্ষ্ম অসঙ্গতি বা ত্রুটিগুলি সনাক্ত করার উপর নির্ভর করে, যা মানুষের চোখে সহজে ধরা পড়ে না। এর মধ্যে অস্বাভাবিক পলক ফেলার ধরণ, আলোর অসঙ্গতি বা মুখের বৈশিষ্ট্যগুলির বিকৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ডিপফেক্সের উত্থান গণমাধ্যম এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে এই প্রযুক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান পরিশীলিততা খাঁটি এবং জাল কন্টেন্টের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন করে তোলে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর থেকে বিশ্বাস সরিয়ে নিতে এবং সামাজিক বিভাজনকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এর ফলে শিল্পখাতেও যথেষ্ট প্রভাব পড়ছে, কারণ গণমাধ্যম সংস্থা, ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ডিপফেক্স সনাক্তকরণ এবং মোকাবিলার জন্য কার্যকর কৌশল তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছে।
এই ঘটনা এআই-এর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর তাদের প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়ে চলমান বিতর্ককে তুলে ধরে। কেউ কেউ কঠোর সরকারি তদারকির পক্ষে কথা বললেও, অন্যরা মনে করেন যে স্ব-নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পখাতের সহযোগিতা আরও বেশি কার্যকর উপায়।
গ্রোক-ভিত্তিক ডিপফেক্স মোকাবিলায় X এখনও পর্যন্ত তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। আশা করা যাচ্ছে, সংস্থাটি তাদের কৌশল বাস্তবায়ন এবং সরকারি কর্মকর্তা ও জনগণের উদ্বেগের সমাধানে কাজ করার সাথে সাথে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও ঘোষণা আসবে। নীতিনির্ধারক, শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং জনগণ সকলেরই এই পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment