ইসরায়েল ইরান-এ চলমান বিক্ষোভগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যে দেশটিকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে, তবে প্রাক্তন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল সম্ভবত সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সেখানে সরকার পরিবর্তনের উস্কানি দেবে না। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে, বিশেষ করে এর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে, এবং এর সঙ্গে নাৎসি জার্মানির তুলনা করেছে।
গত জুনে দেশ দুটি একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিল, যেখানে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সমর্থনে, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের বর্তমান সরকারের পতন হলে ইসরায়েলের সম্ভাব্য সুবিধা হওয়া সত্ত্বেও, প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপকে অসম্ভাব্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যদি না এটি বৃহত্তর, মার্কিন-নেতৃত্বাধীন অভিযানের অংশ হয় বা ইসরায়েলের উপর সরাসরি ইরানি হামলার প্রতিক্রিয়া না হয়।
এই সতর্কতামূলক পদ্ধতির কারণ হলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি, যা সম্ভবত একটি নতুন যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যা সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং ছায়াযুদ্ধ দ্বারা চিহ্নিত, ইসরায়েলের যেকোনো সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকে আরও জটিল করে তোলে। ইরানের প্রভাব পুরো অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত, লেবানন, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের মতো দেশগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। ইসরায়েলের যেকোনো সরাসরি পদক্ষেপ একটি বৃহত্তর সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে, যা এই আঞ্চলিক অভিনেতাদের টেনে এনে ইতিমধ্যেই অস্থির অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ গভীরভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গেও জড়িত। ইসরায়েলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন, আশঙ্কা করছে যে এটি পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশের দিকে পরিচালিত করতে পারে। ইরান দাবি করে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, যেমন শক্তি উৎপাদন এবং চিকিৎসা গবেষণার জন্য, তবে ইসরায়েল এটিকে একটি অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে দেখে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের একটি প্রধান মিত্র, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (JCPOA)-এর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, যা ইরান পরমাণু চুক্তি নামেও পরিচিত। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়, ইরানের উপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বাইডেন প্রশাসন জেসিপিওএ পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে আলোচনা স্থবির হয়ে আছে।
পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর কারণে ইরানে চলমান বিক্ষোভগুলো ইরানি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিক্ষোভ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তা থেকে সরকারের পতন হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইরানি সরকারের অতীতে ভিন্নমত দমন এবং বলপূর্বক ক্ষমতা ধরে রাখার ইতিহাস রয়েছে।
পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং ইসরায়েল সম্ভবত ইরানে উন্নয়নগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা অব্যাহত রাখবে। উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনও উদ্বেগের কারণ, এবং উভয় পক্ষের যেকোনো ভুল হিসাবের ফলে অঞ্চল এবং বিশ্বের জন্য গুরুতর পরিণতি হতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment