ফ্রন্টিয়ার্স-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, দ্রুত বিলুপ্ত হতে চলা আটলান্টিক অরণ্যে মশা ক্রমবর্ধমানভাবে মানুষ-অধ্যুষিত অঞ্চলের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। অনেক প্রজাতি এখন বনের বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর পরিবর্তে মানুষের রক্ত পান করতে বেশি পছন্দ করছে। গবেষকরা দেখেছেন যে, খাদ্যাভাসের এই পরিবর্তন ডেঙ্গু এবং জিকার মতো বিপজ্জনক ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে তোলে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা থেকে আসা বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশ করে যে কীভাবে বনভূমি উজাড় নীরবে রোগের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, বিশেষ করে যে অঞ্চলগুলি উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত পরিবর্তনের সম্মুখীন হচ্ছে।
গবেষণাটি আটলান্টিক অরণ্যের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যা একসময় ব্রাজিলের উপকূলরেখা জুড়ে বিস্তৃত ছিল, কিন্তু মানুষের বসতি স্থাপনের কারণে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আয়তনে সংকুচিত হয়েছে। এই বনটি কয়েকশ প্রজাতির পাখি, উভচর, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং মাছ সহ বিশাল জীববৈচিত্র্যকে সমর্থন করে। গবেষণার প্রধান লেখক ড. [কাল্পনিক নাম] ব্যাখ্যা করেছেন যে, আবাসস্থলের খণ্ডন এবং ক্ষতি মশাগুলোকে খাদ্যের নতুন উৎসের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য করছে। ড. [কাল্পনিক নাম] বলেছেন, "তাদের স্বাভাবিক শিকার হ্রাস পাওয়ায়, মশাগুলো সহজেই পাওয়ার মতো বিকল্প হিসেবে মানুষের দিকে ঝুঁকছে।"
এই আচরণগত পরিবর্তনের তাৎপর্য জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মশা অসংখ্য রোগের বাহক, এবং মানুষের রক্ত পানের প্রতি আগ্রহ সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। গবেষণাটি পরিবেশগত পরিবর্তনগুলো কীভাবে রোগের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে তা বোঝার গুরুত্বের উপর জোর দেয়। গবেষকরা রক্তের নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মশার খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করতে উন্নত এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছেন। এই অ্যালগরিদমগুলো একটি স্পষ্ট প্রবণতা চিহ্নিত করেছে: বনভূমি উজাড় হওয়া এলাকার কাছাকাছি সংগৃহীত মশাগুলোর অক্ষত বন অঞ্চলের মশাগুলোর তুলনায় মানুষের রক্ত পানের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে এই ধরণের বিশ্লেষণ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির চেয়ে জটিল পরিবেশগত মিথস্ক্রিয়াগুলির আরও ব্যাপক ধারণা দেয়।
পরিবেশগত গবেষণায় এআই-এর ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে, যা বিজ্ঞানীদের বিশাল ডেটা প্রক্রিয়াকরণ এবং এমন সব প্যাটার্ন সনাক্ত করতে সাহায্য করছে যা অন্যথায় সনাক্ত করা কঠিন হত। উদাহরণস্বরূপ, এআই ব্যবহার করে বনভূমি উজাড়ের হার পর্যবেক্ষণ, আক্রমণাত্মক প্রজাতির বিস্তার অনুমান এবং জীববৈচিত্র্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান গবেষণাটি উদীয়মান রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রাথমিক সতর্কতা প্রদানের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পদক্ষেপগুলো জানানোর ক্ষেত্রে এআই-এর সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে আটলান্টিক অরণ্য থেকে প্রাপ্ত ফলাফলগুলো বনভূমি উজাড় এবং আবাসস্থল হারানোর সম্মুখীন অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণাটি সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়, যার মধ্যে রয়েছে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি। ভবিষ্যতের গবেষণা মশার খাদ্য পছন্দের কারণগুলো চিহ্নিত করতে এবং বনভূমি উজাড় হওয়া অঞ্চলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে কৌশল তৈরি করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে। গবেষকরা পরিবেশগত এবং বাস্তুসংস্থান বিষয়ক তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের রোগ প্রাদুর্ভাবের পূর্বাভাস দিতে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment