ইরানের কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বিক্ষোভকালে নিহত বিক্ষোভকারীদের মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার জন্য পরিবারগুলোর কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করছে বলে জানা গেছে। বিবিসি একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছে যে, ইরানের বিভিন্ন মর্গ ও হাসপাতালে মৃতদেহগুলো আটকে রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ না পেলে মৃতদেহ হস্তান্তর করতে অস্বীকার করছে।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভের ফলস্বরূপ কর্তৃপক্ষ সহিংস দমন-পীড়ন চালিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অনুমান অনুযায়ী, কমপক্ষে ২,৪৩৫ জন নিহত হয়েছেন। রাশ্তের একটি পরিবারকে তাদের প্রিয়জনের মৃতদেহ পোউরসিনা হাসপাতালের মর্গ থেকে ছাড়ানোর জন্য ৭০ কোটি তোমান (প্রায় ৩,৭০০ মার্কিন ডলার) দিতে বলা হয়েছে। তেহরানে অন্য একটি পরিবারের কাছে ১০০ কোটি তোমান (প্রায় ৫,২০০ মার্কিন ডলার) চাওয়া হয়েছে, যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে।
এই অর্থ দাবির ঘটনা শোকাহত পরিবারগুলোর জন্য আরও একটি দুঃখ এবং ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের সরকারের বিক্ষোভ দমনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ধরনের ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
ইরানের ভিন্নমত দমনের ইতিহাস রয়েছে, তবে এই বিক্ষোভগুলো বিশেষভাবে ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। মাহসা আমিনি নামে এক তরুণী পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে বিক্ষোভ দ্রুত সরকার পরিবর্তনের বৃহত্তর আহ্বানে রূপ নেয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সর্বশেষ অভিযোগগুলোর প্রতিক্রিয়া কীভাবে দেখায়, তা দেখার বিষয়। কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের সম্পূর্ণ চিত্র উদঘাটনের জন্য আরও তদন্তের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment