বিবিসি কর্তৃক প্রাপ্ত একটি ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ অনুসারে, আফগানিস্তানের তালেবান নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য ইসলামিক আমিরাতের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অডিওটিতে তালেবানের সুপ্রিম লিডার হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে সতর্ক করেছেন, যা তালেবানের সরকারের পতন ঘটাতে পারে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কান্দাহারের একটি মাদ্রাসায় তালেবান সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া আখুন্দজাদার ভাষণটি তালেবানের সর্বোচ্চ স্তরে ফাটলের বিদ্যমান গুজবকে আরও উস্কে দিয়েছে। তিনি বলেছিলেন যে "সরকারের অভ্যন্তরের লোকেরা" একে অপরের বিরুদ্ধে লিপ্ত এবং সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে এই বিভাজন শেষ পর্যন্ত আমিরাতকে ধ্বংস করতে পারে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্বে সিরাজউদ্দিন হাক্কানি এবং মোহাম্মদ ইয়াকুবের মতো মন্ত্রীরা জড়িত, যারা আখুন্দজাদার মুখপাত্র "চূড়ান্ত ক্ষমতা" রাখার দাবি করা সত্ত্বেও তার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলির সমালোচনা করেছেন। এই মতানৈক্যের নির্দিষ্ট কারণ এখনও অস্পষ্ট, তবে ফাঁস হওয়া অডিও থেকে বোঝা যায় যে এটি তালেবানের নিয়ন্ত্রণকে বিপন্ন করার জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতি আফগানিস্তানের নারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যারা ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে তাদের অধিকার ও স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের সম্মুখীন হয়েছেন। তালেবান সরকারের সম্ভাব্য পতন আরও অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার দিকে পরিচালিত করতে পারে, যা আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। অনেক নারী সাহসিকতার সাথে এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, তাদের অধিকারের জন্য ওকালতি করছেন এবং ঝুঁকি সত্ত্বেও নিজেদের এবং তাদের সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছেন।
তালেবানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে সন্ত্রাস দমন প্রচেষ্টা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলেছে, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং মানবাধিকার, বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। তালেবান তাদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনগুলো সমাধান করতে এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবে কিনা, নাকি আফগানিস্তান আরও বিশৃঙ্খলার দিকে নেমে যাবে, তা নির্ধারণের জন্য আগামী মাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্জিত যেকোনো অগ্রগতি ভেস্তে যেতে পারে এবং আফগান নারীদের কণ্ঠস্বর ও অবদান আরও প্রান্তিক হয়ে যেতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment