ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন বাহিনী একটি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক আটক করা এই ধরনের জাহাজের মধ্যে এটি ষষ্ঠ। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম জানান, মার্কিন কোস্ট গার্ড বৃহস্পতিবার খুব ভোরে ভেরোনিকা নামক ট্যাঙ্কারটিতে উঠে তল্লাশি চালায়।
নোয়েম-এর মতে, ভেরোনিকা এর আগে ভেনেজুয়েলার জলসীমা দিয়ে যাত্রা করেছিল এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক ক্যারিবিয়ানে অনুমোদিত জাহাজগুলির জন্য জারি করা কোয়ারেন্টাইন লঙ্ঘন করে কাজ করছিল। এই অভিযানে মার্কিন মেরিন এবং নাবিকরা জড়িত ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার বিশিষ্ট বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোর মধ্যে একটি বৈঠকের আগে এই আটকের ঘটনা ঘটল।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল খাতের উপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে, যার লক্ষ্য মাদুরো সরকারের রাজস্ব প্রবাহ বন্ধ করা। এই পদক্ষেপগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞার উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর সাথে লেনদেন নিষিদ্ধ করে। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রচারের জন্য এই নিষেধাজ্ঞাগুলো জরুরি।
এই সর্বশেষ আটকের ঘটনাটি ভেনেজুয়েলার তেল মজুদকে ঘিরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম। মার্কিন কৌশল হলো এই নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যকর করার জন্য তার সামুদ্রিক ক্ষমতা ব্যবহার করা, কার্যত ভেনেজুয়েলার সাথে বাণিজ্য করছে সন্দেহে এমন জাহাজগুলোকে আটকানো। এই পদক্ষেপ কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের কাছ থেকে সমালোচনা আকর্ষণ করেছে, যারা মনে করেন এটি অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতার একটি রূপ।
ভেনেজুয়েলার সরকার এই আটকের ঘটনাকে জলদস্যুতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছে। মাদুরো প্রশাসন মনে করে যে তাদের তেল বাণিজ্য বৈধ এবং দেশের অর্থনৈতিক টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের উপর চাপ অব্যাহত রেখেছে, তাই আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি এবং এর জনগণের জন্য এই পদক্ষেপগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ, যা দেশটির বিদ্যমান মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment