ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত, যার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডও রয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমালোচনা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই স্থগিতাদেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের আবেদনকারীদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি বিশেষভাবে বিভ্রান্তিকর, কারণ এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক ২০২৫ সালের আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে উভয় দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক মাস পরেই এসেছে। সেই অনুষ্ঠানে, ট্রাম্প নাকি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি শক্তিশালী অংশীদার এবং বন্ধু হিসেবে দেখতে পারেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ১৪ জানুয়ারির এক পোস্টে এই স্থগিতাদেশের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং আমেরিকানদের জন্য আর্থিক বোঝা হওয়া চলবে না। দফতরটি আরও জানিয়েছে যে তারা সমস্ত ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার একটি সম্পূর্ণ পর্যালোচনা শুরু করছে।
এই স্থগিতাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরেও বিস্তৃত, যার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান, সেইসাথে মধ্য এশিয়া ও মধ্য প্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; পর্যটন এবং ব্যবসার জন্য অ-অভিবাসী ভিসাগুলির উপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
এই নীতি পরিবর্তনের প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হতে পারে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি এবং অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে। উপরন্তু, এই স্থগিতাদেশ পরিবারগুলোর পুনর্মিলন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুযোগ সন্ধানকারীদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার পর্যালোচনা এখনও চলমান। এই পর্যালোচনার সময়কাল এবং চূড়ান্ত ফলাফল অনিশ্চিত, যার ফলে অনেক সম্ভাব্য অভিবাসী অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এই বছর যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment